
সাইয়েদ ইবনে তাঊস মুহাজ গ্রন্থে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ( রা ) থেকে বর্ণনা করেছেন : ইবনে আব্বাস ( রা ) বলেছেন : একদিন আমি হযরত আমীরুল মু'মিনীন ইমাম আলীর ( আ ) কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে আসল যার গায়ের রং ছিল ফ্যাকাশে ( বা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল ) এবং বলল : " হে আমীরুল মু'মিনীন ! আমি সবসময় অসুস্থ থাকি এবং আমার দেহে অনেক ব্যাথা। তাই আমাকে এমন দুআ শিখিয়ে দিন যা পাঠ করা থেকে আমি আমার রোগ ও অসুস্থতায় সাহায্য নিতে পারি । " তখন হযরত আলী ( আ ) বললেন : " যখন হাসান ও হুসাইন অসুস্থ ছিল তখন মহানবীকে ( সা ) হযরত জিব্রাইল ( আ ) যে দুআ শিখিয়েছিলেন আমি তা তোমাকে শিখাব । " দুআটি :
إِلَهِي كُلَّمَا اَنْعَمْتَ عَلَيَّ نِعْمَةً قَلَّ لَكَ عِنْدَهَا شُكْرِي وَ كُلَّمَا اِبْتَلَيْتَنِي بِبَلِيَّةٍ قَلَّ لَكَ عِنْدَهَا صَبْرِي فَيَا مَنْ قَلَّ شُكْرِي عِنْدَ نِعْمَتِهِ فَلَمْ يَحْرِمْنِي وَ يَا مَنْ قَلَّ صَبْرِي عِنْدَ بَلاَئِهِ فَلَمْ يَخْذُلْنِي وَ يَا مَنْ رَآنِي عَلَى اَلْخَطَايَا فَلَمْ يَفْضَحْنِي وَ يَا مَنْ رَآنِي عَلَى اَلْمَعَاصِي فَلَمْ يُعَاقِبْنِي عَلَيْهَا صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ وَ اِغْفِرْ لِي ذُنُوبِي وَ اِشْفِنِي مِنْ مَرَضِي هَذَا إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيرٌ.
হে ইলাহী ( হে আমার মা'বূদ ) ! আপনি আমাকে যখনই কোনো নেয়ামত দিয়েছেন ব্যস তখনই ঐ নিয়ামতের জন্য ( আপনার প্রতি ) আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি নি ( আপনার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা বোধই ছিল না ) ; আর যখনই আপনি আমাকে বিপদে আপতিত করেছেন ( পরীক্ষা করার জন্য অথবা শাস্তি স্বরূপ ) তখন আমি ধৈর্য ধারণ ( সবর ) করি নি ( অর্থাৎ আমার ধৈর্যের অভাব ছিল) । অত:পর হে ঐ মহান সত্তা ! যাঁর প্রদত্ত নেয়ামতের বরাবরে আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ছিল অতি অল্প , তুচ্ছ ও নগণ্য কিন্তু এতদসত্ত্বেও যিনি আমাকে বঞ্চিত করেন নি ( তাঁর নেয়ামত সমূহ থেকে ) । হে ঐ মহান সত্তা! যিনি আমাকে বিপদে আপতিত করলে ( উক্ত বিপদাপদে পতিত হওয়ার ফলে ) আমার ধৈর্য্যচ্যুতির জন্য আমাকে সাহায্য করা থেকে বিরত থাকেন নি ; হে ঐ মহান সত্তা ! যিনি আমাকে অন্যায় ও ভুল - ভ্রান্তির ওপর আমাকে প্রতিষ্ঠিত দেখেও আমার দোষ - ত্রুটি প্রকাশ করে আমাকে লজ্জিত , অপদস্থ , অপমানিত ও লাঞ্ছিত করেন নি ; হে ঐ মহান সত্তা যিনি গুনাহ ও পাপাচারের ওপর আমাকে প্রতিষ্ঠিত দেখতে পেয়েও আমাকে আমার পাপ ও গুনাহের জন্য শাস্তি দেন নি ; হে আল্লাহ ! হযরত মুহাম্মদ ও আল - ই মুহাম্মদের ( হযরত মুহাম্মদের নিকটাত্মীয় ও রক্তজ বংশধর আহলুল বাইত ) ওপর দরূদ ও সালাত প্রেরণ করুন , আমার সকল গুনাহ - খাতা ( পাপ ) মাফ করে দিন এবং আমাকে আমার এই রোগ ও অসুখ থেকে শিফা ( আরোগ্য ) দিন ; নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান ( অর্থাৎ সর্বশক্তিমান ) ।
ইবনে আব্বাস ( রা ) বলেন : " ( এর ঠিক ) এক বছর পরে আমি ঐ ব্যক্তিকে পুনরায় দেখতে পেলাম যে তার দেহের রং খুলেছে ও সুন্দর হয়েছে এবং তা গৌরবর্ণ ( লাল ) ধারণ করেছে। সে আমাকে বলল : ( আমার দেহে ) এমন কোনো ব্যাথা ছিল না যা এ দুআ পাঠ করার পর ভালো হয় নি ( এ দুআ পাঠ করার কারণে আমার দেহের যে ব্যাথাই থাকুক না কেন তা সেড়ে গেছে ) । আর এমন কোন পরাক্রমশালী ( অত্যাচারী যালেম ) বিদ্যমান নেই ( ছিল না ) যাকে আমি ভয় করি ও ডরাই অথচ তার সামনে উপস্থিত হয়ে এ দুআটি পাঠ করা মাত্রই মহান আল্লাহ তার ( সেই যালেমের ) অনিষ্ট ও ক্ষতি আমা হতে দূর করে দেন নি ।
( দ্রঃ মাফাতীহুল জিনান )
অনুবাদ : ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
১৪-১-২০২৫ ( ১৩ রজব , ১৪৪৬ হি )